
রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে মধ্যরাতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা-১৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় ভূমিকা রাখা প্রতিষ্ঠানটিতে দুই শতাধিক মুখোশধারী ব্যক্তি হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। পরে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে কেন্দ্রটির একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ স্থাপনার বড় অংশ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও একই ধরনের ঘটনার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার দীর্ঘদিন ধরে স্বল্পমূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, প্রসূতি ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা এবং শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। হামলার সময় নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করা এবং ওষুধ, টিকা ও চিকিৎসা সরঞ্জাম লুটের অভিযোগও করেছে কর্তৃপক্ষ।
নিখিল খান বলেন, এমন একটি জনকল্যাণমূলক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে হামলা শুধু একটি ভবনের ওপর আক্রমণ নয়, বরং সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবার সুযোগকেও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তাঁর বিবৃতিতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।
এদিকে ঘটনাটি নিয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজে হামলা ও লুটপাটের সময় ঘটনাস্থলের বাইরে পুলিশের গাড়ি দেখা গেছে। পরে তদন্ত কমিটি দায়িত্ব পালনে পুলিশের গাফিলতির প্রমাণ পেয়েছে বলে মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন।
ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা পুলিশের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে এবং দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ঘটনায় যে-ই জড়িত থাকুক, রাজনৈতিক পরিচয় না দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, আরও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
নিখিল খান অবিলম্বে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িত সবাইকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।